Breaking News

২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকাতেই আক্রান্ত ৬২



দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় যে ১১২ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬২ জন্যই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার।

এ নিয়ে ঢাকায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। আর সারাদেশে শনাক্তের সংখ্যা ৩৩০ জন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে নতুন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১১২ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৭০ জন ও নারী ৪২ জন। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হিসেবে ঢাকায় শনাক্ত ৬২ জন ‍এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নারায়ণগঞ্জে শনাক্ত ১৩ জন।’

‘‘নারায়ণগঞ্জে রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ জনে। গতকাল পর্যন্ত যা ছিল ৪৬ জনে। এটা আমাদের একটা নতুন হটস্পট, সেখানে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছি।’’

সেব্রিনা ফ্লোরা আরও বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ১০ বছরের নিচে ৩ জন, ১০ থেকে ২০ বছর বয়সী ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৫জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১৭ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ২৩ জন এবং ষাটোর্ধ্ব ১১ জন। নতুন করে যিনি মারা গেছেন তিনি রাজধানীর ঢাকার একজন ষাটোর্ধ্ব পুরুষ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে আরও ১ হাজার ৩৩৭ জনকে।

প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ১৪৯ জনকে। এ সময়ে ৮৫৬ জনকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ১০ হাজার ৭৮৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩৭ জনকে। ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন। এখন আইসোলেশনে রয়েছেন ১৩৫ জন।

এরআগে দুপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিশ্চিত করেন বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টার নতুন করে বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১১২ জনের দেহে।

এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩০ জনে। এছাড়া করোনায় ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও একজন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। এর পর ১৮ মার্চ কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যুর কথা জানায় আইইডিসিআর।

২৫ মার্চ প্রথমবারের মতো সংস্থাটি জানায় যে, বাংলাদেশে সীমিত আকারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন বা সামাজিকভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হচ্ছে।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে সাড়ে ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৩ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন প্রায় ৮৮ হাজার ৪৫৭ জন। তবে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৩ লাখ ৩০ হাজার ৩৫৭ জন। করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে এবং সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ইতালিতে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এই ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। রোববার এ ছুটির মেয়াদ ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ছুটির সময়ে অফিস-আদালত থেকে গণপরিবহন, সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল, জরুরি সেবা এই বন্ধের বাইরে থাকছে। জনগণকে ঘরে রাখার জন্য মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র বাহিনীও।